Skip to content
এটি একটি এডুলিচার বিশুদ্ধজ্ঞান প্রকল্প

আজ সোমবার,
২২শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৬ই জুলাই, ২০২০ ইং, ১৪ই জিলক্বদ, ১৪৪১ হিজরী, বর্ষাকাল,
এখন বাংলাদেশ মান সময় রাত ৪:২০ মিনিট

শরৎ রচনাবলীতে ৫৮ টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে।

একনজরে শরৎ রচনাবলী

মোট গ্রন্থ
৫৮ টি
উপন্যাস
২২ টি
বড়গল্প
১০ টি
ছোটগল্প
২৪ টি
প্রবন্ধগ্রন্থ
টি
প্রবন্ধ
২২ টি
নাটক
টি
বিবিধ
টি
নির্মাণ
পরিচালনায়

প্রকল্প পরিচিতি

বাংলা সাহিত্যের এক আশ্চর্য প্রতিভা অপরাজেয় কথাশিল্পী ‘শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়’ (১৮৭৬-১৯৩৮ খ্রীষ্টাব্দ)। সাহিত্যের জগতে আনন্দের ভোজে শরৎচন্দ্র যে পাত্র সাজিয়েছেন স্বাদে গন্ধে তা বহুদিন আকুল করবে বাঙালী পাঠককে। বাংলা সাহিত্যে যারা খাঁটি ও বোদ্ধা পাঠক তাদের মাঝে মধ্যে পিছনে ফিরে তাকাতে হয় তাদেরই দিকে যারা কোনদিন পুরনো হবেন না।
পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার দেবানন্দপুর গ্রামে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম। তার রক্তধারায় বৈরাগ্যভাব ছিল বলেই প্রথম জীবনে সন্ন্যাসী বেশে ভারতের বহুস্থানে পর্যটন করেন। জীবিকার অন্বেষণে ১৯০৩ খ্রিস্টাব্দে শরৎচন্দ্র বার্মায় যান৷ এই সময়ে প্রকাশিত মন্দির (১৯০৫) গল্পের জন্য পুরস্কৃত হন। তারপর ‘বড়দিদি’ ‘ভারতী’ নামক প্রখ্যাত পত্রিকায় ১৯১৩ সালে প্রকাশিত হলে বিপুল প্রসংশা লাভ করেন। তারপর আর পেছনে ফেরা নয়। অতি অল্প সময়েই তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জনে সমর্থ হন। সেই সময়ে শরৎচন্দ্রই একমাত্র সাহিত্যিক যিনি সাহিত্য সাধনাকেই একমাত্র পেশা হিসেবে বেচে নিয়েছিলেন।
বঙ্কিমচন্দ্র ও রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যের আকাশে উজ্জ্বলতম জ্যোতিষ্ক হলেন কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, যিনি তাঁর সীমিত কালখণ্ড ও ভূমিখণ্ডকে স্বচ্ছন্দে অতিক্রম করে এক যুগোত্তীর্ণ মর্যাদায় অধিষ্টিত হয়ে আছেন বাঙালি পাঠকসমাজে, তাঁর কালজয়ী খ্যাতি দেশের সীমাকে বঙ্কিমচন্দ্র ও রবীন্দ্রনাথের পরিলঙ্ঘন করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিস্তারলাভ করে বিদেশি পাঠকদের মনকেও জয় করেছে।
বাংলা উপন্যাস সাহিত্যে শরৎচন্দ্র এমন একটি নূতন পথ ধরে অগ্রসর হয়েছেন যা বাঙলা কথাসাহিত্যের পরিধিকে প্রসারিত করে দিয়ে তার মধ্যে এনেছে এক অদৃষ্টপূর্ব বৈচিত্র্য। সংবেদনশীল হৃদয়, ব্যাপক জীবনজিজ্ঞাসা, প্রখর পর্যবেক্ষণশক্তি, সংস্কারমুক্ত স্বাধীন মনোভঙ্গি প্রভৃতির গুণে শরৎসাহিত্য লাভ করেছে এক অনন্যসাধারণ বিশিষ্টতা যা পরবর্তীকালের বাঙলা সাহিত্যের গতিপ্রকৃতিকে অনেকাংশে নিয়ন্ত্রিত করেছে। বিস্তারিত

শরৎ রচনাবলী নির্ঘণ্ট

নির্বাচিত রচনা

  • একদিন বৈশাখের দ্বিপ্রহরে রৌদ্রেরও অন্ত ছিল না, উত্তাপেরও সীমা ছিল না। ঠিক সেই সময়টিতে মুখুয্যেদের দেবদাস পাঠশালা—ঘরের এক কোণে ছেঁড়া মাদুরের উপর বসিয়া, শ্লেট হাতে লইয়া, চক্ষু চাহিয়া, বুজিয়া, পা ছড়াইয়া, হাই তুলিয়া, অবশেষে হঠাৎ খুব চিন্তাশীল হইয়া উঠিল; এবং নিমিষে স্থির করিয়া ফেলিল যে, এই পরম রমণীয় সময়টিতে মাঠে মাঠে ঘুড়ি উড়াইয়া বেড়ানোর পরিবর্তে পাঠশালায় আবদ্ধ থাকাটা কিছু নয়। উর্বর মস্তিষ্কে একটা উপায়ও গজাইয়া উঠিল। সে শ্লেট—হাতে উঠিয়া দাঁড়াইল।

    পাঠশালায় এখন টিফিনের ছুটি হইয়াছিল। বালকের দল নানারূপ ভাবভঙ্গী ও শব্দসাড়া করিয়া অনতিদূরের বটবৃক্ষতলে ডাংগুলি খেলিতেছিল। দেবদাস সেদিকে একবার চাহিল। টিফিনের ছুটি সে পায় না—কেননা গোবিন্দ পণ্ডিত অনেকবার দেখিয়াছেন যে, একবার পাঠাশালা হইতে বাহির হইয়া পুনরায় প্রবেশ করাটা দেবদাস নিতান্ত অপছন্দ করে। তাহার পিতারও নিষেধ ছিল। নানা কারণে ইহাই স্থির হইয়াছিল যে এই সময়টিতে সে সর্দার—পোড়ো ভুলোর জিম্মায় থাকিবে।

    এখন ঘরের মধ্যে শুধু পণ্ডিত মহাশয় দ্বিপ্রাহরিক আলস্যে চক্ষু মুদিয়া শয়ন করিয়াছিলেন এবং সর্দার—পোড়ো ভুলো এক কোণে হাত—পা ভাঙ্গা একখণ্ড বেঞ্চের উপর ছোটখাটো পণ্ডিত সাজিয়া বসিয়াছিল এবং মধ্যে মধ্যে নিতান্ত তাচ্ছিল্যের সহিত কখন বা ছেলেদের খেলা দেখিতেছিল, কখন বা দেবদাস এবং পার্বতীর প্রতি আলস্য—কটাক্ষ নিক্ষেপ করিতেছিল। পার্বতী এই মাসখানেক হইল পণ্ডিত মহাশয়ের আশ্রয়ে এবং তত্ত্বাবধানে আসিয়াছে। পণ্ডিত মহাশয় সম্ভবতঃ এই অল্পসময়ের মধ্যেই তাহার একান্ত মনোর ন করিয়াছিলেন, ...

Scroll Up