অরক্ষণীয়া » অরক্ষণীয়া

বিষয়াবলী ,
পাতা তৈরিনভেম্বর ১৪, ২০১৬
সম্পাদনাজুন ৬, ২০২০
দৃষ্টিপাত
লিঙ্ক
http://sharat.eduliture.org/?p=1839
অরক্ষণীয়া গল্পে শরৎচন্দ্র দেখিয়েছেন সনাতন গ্রাম্য জীবনের ছবি। যেই সমাজ অত্যন্ত কঠোর অনুশাসনে বদ্ধ। এই গল্পের মধ্যে দিয়ে লেখক দেখিয়েছেন যে একটি বিবাহযোগ্যা কন্যা সঠিক সময়ে পাত্রস্থ না হলে সমাজের কি নির্দয়ী পরিস্থিতি হয়। যার ফলস্বরূপ কন্যার নামকরণ হয় “অরক্ষণীয়া”। শুধু সমাজই নয় সেই সঙ্গে পরিবারের লোকজনেরাও মেয়েটির সাথে নির্মম ব্যবহার ও উৎপীড়ন করে।
অরক্ষণীয়া সেই সময়কার গোঁড়া হিন্দু সমাজ ব্যবস্থার প্রতি এক নিদারুণ কটাক্ষ। যে সমাজ ত্রয়োদশবর্ষীয়া মেয়েকে আইবুড়ো মনে করে, সমাজের কলঙ্ক মনে করে কিন্তু আগ বাড়িয়ে কেউ সে দ্বায়িত্ব নিতে চায় না।
সদ্য স্বামী হারানো দুর্গা হঠাৎ বুঝতে পারে এতদিন স্বামী জীবিত থাকতে যে প্রশ্ন বাড়ির লোকে — পাড়ার লোকে তোলার সাহস পায়নি অতটা সে প্রশ্নের বাণে আজ সে বিদ্ধ। কিন্ত সহায় সম্বল হীন, বাপ মরা এবং সমাজের চোখে রঙ ময়লা কুশ্রী জ্ঞানদাকে বিয়ে করবে, কে বিয়ে করে সমাজের মুখটা বন্ধ করবে, সে প্রশ্ন দুর্গামনি জানেন না। অপরদিকে প্রেমিক অতুলের কথায় আশায় বুক বাঁধতে থাকা স্বপ্নটাও যখন এক্কেবারে ভেঙে চুরমার হয়ে যায় তখন আর দুর্গা পেরে উঠেন না, রোগে শোকে ভুগে পরপারে পাড়ি জমাতে হয়। আর জ্ঞানদা জ্যাঠিমা-মামা-কাকা ইত্যাদির হাতে নিত্য তিরষ্কৃত হতে থাকে। তার দোষ কী সে তা জানে না। অতুল ধোঁকা দিয়েছিল বটে জ্ঞানদাকে কিন্ত সে ধোঁকা সে বাস্তবিকই জ্ঞানদাকে নয় নিজেকেই নিজে দিয়েছিল।
চোখের জল, অভাব, আশা-ভরসা, পিতৃ-বিয়োগ, আর এক রাশ হতাশা, তবুও চরিত্রে এতো নমনীয়তা সৃষ্টি শুধুমাত্র শরৎচন্দ্রের দ্বারাই সম্ভব ছিল। তিনিই পেরেছেন তৎকালীন সমাজজীবনের এক-একটি চরিত্রকে বাস্তবতার তুলিতে আঁকতে। সবশেষে বলা চলে, অরক্ষণীয়া একই সময়ে তৎকালীন সমাজ-বাস্তবতার প্রতি নির্বাক প্রতিবাদ ও সমাজের মিথ্যা মুখোশের প্রতি পাঠকবর্গকে দৃষ্টি আকর্ষিত করে। এখানেই গল্পটির নবজাগরণ চেতনা প্রকাশিত।
শরৎ রচনাবলী
মতামত জানান